মিরসরাইয়ের বোয়ালিয়া ট্রেইলে কেন যাবেন?

ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে কুমিল্লার ময়নামতি এসে একটি রেস্তোরাঁর সামনে থামলো আমাদের বাস। বিরতি দিলো ৩০ মিনিটের। তখন ঘড়ির কাঁটায় রাত সোয়া দুইটা বাজতে চলেছে। আমাদের গন্তব্য চট্টগ্রামের মিরসরাই বোয়ালিয়া ট্রেইল। উদ্দেশ্য হচ্ছে ৬টি ঝরনা দেখা ও পায়ে হেঁটে

দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়া। এবারের যাত্রায় আমরা ২২ জন ভ্রমণপিপাসু। ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ ‘ভ্রমণ কাতর ভ্রমর’ এক ইভেন্টের মাধ্যমে আমাদের এক করেছে। আধাঘণ্টার বিরতি শেষে বাস ছুটলো দেশের সবচেয়ে বড় বিভাগ চট্টগ্রামের দিকে। মিরসরাইয়ে পৌঁছাই ভোর সাড়ে ৪টায়। তখন আকাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মিরসরাই কাঁচাবাজারে অপেক্ষা করছি, হোটেল খুললেই নাস্তা করে বোয়ালিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেব।

সকালের নাস্তা শেষে কয়েকটি সেলফি তুলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে রওনা দিলাম বোয়ালিয়ার দিকে। বোয়ালিয়া নেমে গ্রামের মেঠোপথ ধরে হাঁটতে লাগলাম। সবাই সারিবদ্ধভাবে হাঁটছি। কখনো পায়ে জড়াচ্ছে কাদামাটি, আবার কখনো হাটু সমান পানির মধ্যে হাঁটছি। এখানে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করে হাঁটতে হয়। কারণ জোঁকে ধরার আশঙ্কা থাকে। লম্বা সময় হাঁটার উপযোগী এমন জুতা পরে হাঁটতে হয়। পরনের কাপড় যত পাতলা রাখা যায়, ততো ভালো।

হাঁটতে হাঁটতে অমরমানিক্য নামে ঝরনার কাছে চলে এসেছি। ঝিরঝির করে ঝরনার পানি নিচে পড়ছে। দেখে আর অপেক্ষা করলো না কেউই। দ্রুত শরীরটা ভিজিয়ে নিলো সবাই। সেখানে ২০ মিনিটের মতো থেকে ভেজা শরীর নিয়ে রওনা দিলাম আন্ধারমানিক নামে ঝরনার দিকে। সেখানে বেশি সময় দেওয়া হলো না। কারণ আরও কয়েকটি ঝরনা দেখার বাকি আছে। কিছুদূর হাঁটার পর ছড়া ঝরনার কাছে পৌঁছলাম। সেখানে একই জায়গায় দুটো ঝরনা রয়েছে।